বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি প্রতিফলিত হয় দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনায়। নিচে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানের তালিকা দেওয়া হলো—
---
১. প্রাচীন ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
মহাস্থানগড় (বগুড়া) – বাংলার প্রাচীনতম শহর, মौर্য ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের নিদর্শন পাওয়া যায়।
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (নওগাঁ) – ৮ম-৯ম শতকের সোমপুর মহাবিহার, যা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য।
ময়নামতি (কুমিল্লা) – শালবন বিহারসহ বহু বৌদ্ধ স্থাপনার কেন্দ্র।
ওয়ারি-বটেশ্বর (নরসিংদী) – প্রায় ২৫০০ বছরের পুরনো নগর সভ্যতার নিদর্শন।
---
২. মুসলিম শাসনামলের স্থাপত্য
ষাট গম্বুজ মসজিদ (বাগেরহাট) – ১৫ শতকের সুলতানি আমলের এক অনন্য স্থাপত্য, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য।
লালবাগ কেল্লা (ঢাকা) – ১৬৭৮ সালে মুঘল সুবাদার আজম শাহ শুরু করেছিলেন।
খান জাহান আলীর মাজার (বাগেরহাট) – ১৫শ শতকের মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদ – বাংলার সুলতানি আমলের অন্যতম সুন্দর মসজিদ।
---
৩. ব্রিটিশ ও নবাবী শাসনামলের ঐতিহাসিক স্থান
আহসান মঞ্জিল (ঢাকা) – ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ, যা এখন একটি জাদুঘর।
ক্যারিজ হাউস (রাজশাহী) – ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক ভবন।
পানাম নগর (নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁও) – মুঘল ও ব্রিটিশ যুগের ব্যবসায়ীদের নগরী, বর্তমানে পরিত্যক্ত।
নবরত্ন মন্দির (দিনাজপুর) – ১৮ শতকের জমিদার নির্মিত হিন্দু স্থাপত্য।
---
৪. মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত স্থান
জাতীয় স্মৃতিসৌধ (সাভার) – ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (ঢাকা) – এখানে ৭ মার্চের ভাষণ ও ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ হয়।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর (ঢাকা) – মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।
বধ্যভূমি ৭১ (মিরপুর, ঢাকা) – গণহত্যার নিদর্শন।
রানীগঞ্জ বধ্যভূমি (সিরাজগঞ্জ) – মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার স্মৃতিচিহ্ন।
---
৫. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান
শাহজালাল ও শাহ পরানের মাজার (সিলেট) – সুফি সাধকদের স্মৃতি।
শাহ মখদুম মাজার (রাজশাহী) – বিখ্যাত মুসলিম সাধকের সমাধি।
কান্তজীর মন্দির (দিনাজপুর) – টেরাকোটার জন্য বিখ্যাত ১৮ শতকের মন্দির।
আপনি কি কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বিস্তারিত তথ্য জানতে চান?
0 Comments