বিধবা প্রথা প্রচলন কখন থেকে

 বিধবা প্রথার প্রচলন প্রাচীন ভারতে ব্রাহ্মণ্য সমাজব্যবস্থার বিকাশের সাথে সাথে শুরু হয়। তবে এটি ঠিক কোন সময় থেকে চালু হয়েছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কিছু ঐতিহাসিক ধারণা দেন যে, বৈদিক যুগে (খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০-৫০০) নারীদের পুনরায় বিবাহের সুযোগ ছিল, কিন্তু পরে সমাজে পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাব বৃদ্ধির সাথে বিধবা নারীদের প্রতি কড়াকড়ি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।


প্রাচীন কাল:


ঋগ্বেদ ও অন্য বৈদিক গ্রন্থে বিধবা নারীদের পুনর্বিবাহের কিছু উল্লেখ পাওয়া যায়, যা বোঝায় যে তখন বিধবাদের প্রতি বর্তমানের মতো কঠোর বিধিনিষেধ ছিল না।


কিন্তু পরবর্তী ব্রাহ্মণ্য যুগে (খ্রিস্টপূর্ব ৫০০-খ্রিস্টীয় ৩০০) নারীদের অবস্থান ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে, এবং বিধবা বিবাহকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা হয়।



মধ্যযুগ (খ্রিস্টীয় ৭০০-১৭০০):


এই সময়ে মনুসংহিতা ও অন্যান্য ধর্মীয় শাস্ত্র বিধবা নারীদের জন্য কঠোর জীবনব্যবস্থার নির্দেশনা দেয়।


বিধবা নারীদের সাদা পোশাক পরা, অলংকার ত্যাগ করা, নির্দিষ্ট খাবার খাওয়া এবং একাকী জীবনযাপনের নিয়ম চালু হয়।


সতীদাহ প্রথার প্রচলনও এই সময়েই ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।



ব্রিটিশ শাসন ও আধুনিক যুগ:


১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রিটিশদের সহায়তায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন।


১৮৫৬ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়নে বড় ভূমিকা রাখেন।


ধীরে ধীরে এই প্রথা সমাজ থেকে বিলুপ্ত হতে থাকে, তবে কিছু রক্ষণশীল সম্প্রদায়ে এর প্রভাব এখনও দেখা যায়।



উপসংহার:


বিধবা প্রথার শুরুর নির্দিষ্ট সময় জানা না গেলেও, এটি প্রাচীন ভারতে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এবং মধ্যযুগে এসে কঠোর সামাজিক নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯শ শতকে বিভিন্ন সমাজ সংস্কারকের প্রচেষ্টায় এটি আইনের মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়।



Post a Comment

0 Comments

Close Menu