বিধবা প্রথা বলতে সাধারণত হিন্দু সমাজে প্রচলিত একপ্রকার সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিকে বোঝানো হয়, যেখানে বিধবা নারীদের বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে রাখা হতো। এটি বিশেষ করে ভারতের প্রাচীন সমাজ এবং উপমহাদেশের কিছু অংশে প্রচলিত ছিল।


বিধবা প্রথার বৈশিষ্ট্য:


1. পুনরায় বিবাহ নিষিদ্ধ: বিধবা নারীরা সাধারণত দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারতেন না, যদিও পুরুষদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল না।



2. সাদা পোশাক ও অলংকার ত্যাগ: বিধবাদের রঙিন পোশাক পরার অনুমতি ছিল না, এবং তারা গয়না পরতেন না।



3. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: অনেক বিধবাকে পরিবারের কাছ থেকে দূরে রাখা হতো বা আশ্রমে পাঠানো হতো।



4. খাদ্য ও জীবনযাত্রায় সীমাবদ্ধতা: বিধবারা নির্দিষ্ট খাবার খেতেন এবং প্রায়শই সংযমী জীবনযাপন করতেন।



5. সতীদাহ প্রথা: একসময় কিছু অঞ্চলে বিধবাদের স্বামী মারা গেলে তার চিতায় আত্মাহুতি দিতে বাধ্য করা হতো, যা পরবর্তীতে নিষিদ্ধ করা হয়।




বিধবা প্রথা বিলোপের প্রচেষ্টা:


রাজা রামমোহন রায়: ১৮২৯ সালে তিনি সতীদাহ প্রথা বন্ধে ব্রিটিশ প্রশাসনের সহায়তায় আইন প্রণয়ন করেন।


ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: ১৮৫৬ সালে তিনি বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য আইন প্রণয়ন করতে ব্রিটিশদের রাজি করান।


সমাজ সংস্কার আন্দোলন: পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমাজ সংস্কারকরা বিধবাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করেন।



বর্তমানে অনেক জায়গায় এই প্রথার কুপ্রভাব কমে গেলেও কিছু রক্ষণশীল সমাজে বিধবা নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এখনও দেখা যায়।